সেট -এর আগে সিএসসি কর্তা অপসারণে বহু প্রশ্ন
রাজ্যে
কলেজ শিক্ষক নিয়োগে আজ , রবিবারই স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট (সেট )৷
পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৯৪৫৷ রাজ্যজুড়ে ৪৫টি কেন্দ্রে সকাল
সাড়ে ন ’টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে৷ তার ঠিক আগেই
শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ‘সেট ’ পরিচালনা ও
তদারকির দায়িত্বে থাকা কলেজ সার্ভিস কমিশনের (সিএসসি ) চেয়ারম্যান
সিদ্ধার্থ মজুমদারকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ায় চরম সংশয়ে
পরীক্ষার্থীরা৷ শুধু পরীক্ষাই নয় , নির্ধারিত সময়ে ফলপ্রকাশ ও মেধার
ভিত্তিতে সফল প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ নিয়েও সন্দেহের বাতাবরণ
তৈরি হয়েছে৷ বর্তমানে রাজ্যে কলেজ শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ
প্রক্রিয়াও চড়ান্ত পর্যায়ে৷ ইতিমধ্যে কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের
কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে৷ এই অবস্থায় কলেজ ও
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনগুলিও সিদ্ধার্থবাবুকে পদত্যাগে বাধ্য
করার বিষয়টি ভালো ভাবে দেখছে না৷ তাদের আশঙ্কা , ইতিমধ্যে আদালতের
জাঁতাকলে পড়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ থমকে
গিয়েছে৷ তার পর কলেজে শিক্ষক নিয়োগের শেষ মুহূর্তে কমিশনে রদবদল
নিয়ে মামলা হলে রাজ্যকে আরও বিপাকে পড়তে হবে৷ আর শিক্ষকতার
স্বপ্ন দেখা তরুণ সমাজ নিক্ষিন্ত হবে আরও হতাশায়৷ বিকাশ ভবন
সূত্রে খবর , রাজ্যে সাড়ে চারশোরও বেশি কলেজে ৪৩টি বিষয়ে ১৮০০ -র
বেশি সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে৷
পদার্থবিদ্যা , রসায়ন এবং ভূগোলে তিনশোরও বেশি পদে শিক্ষক নিয়োগ
বাকি৷ সেই সঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ পদ পূরণে ইন্টারভিউও সদ্য শেষ
হয়েছে৷ সফল প্রার্থীদের চড়ান্ত প্যানেল প্রকাশের কাজ চলছে৷ প্রায়
১৮০টি কলেজের অধ্যক্ষ পদ খালি৷ প্যানেল প্রকাশের পরই শুরু হতে
চলেছে কাউন্সেলিং৷ এই অবস্থায় কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে
সিদ্ধার্থবাবুর অপসারণ কতটা যুক্তিযুক্ত, সে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
শিক্ষাবিদদের একাংশ৷ তাঁদের মতে , সুপারিশের ঊর্ধ্বে উঠে সুষ্ঠু ভাবে
পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সিদ্ধার্থবাবু যথেষ্ট তত্পর ছিলেন৷ কিন্ত্ত
তিনি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে একই কলেজে
শিক্ষকতা করতেন৷ সেই কারণেই বোধহয় তাঁকে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর
আমলে চেয়ারম্যানের পদ খোয়াতে হল৷ যদিও উচ্চশিক্ষা দন্তরের এক
আধিকারিকের দাবি , সেট -র জন্য এ বার প্রার্থীদের ই-অ্যাডমিট কার্ড
ডাউনলোডের কথা বলা হয়েছে৷ সেই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট
প্রার্থীদের ফটো -পরিচয়পত্র নিয়ে যেতেও বলা হয়েছে৷ ওয়েবসাইটে
ইতিমধ্যেই বিজ্ঞন্তিও দেওয়া হয়েছে৷ প্রত্যেক প্রার্থীকে দু’বার করে
মেসেজও করা হয়েছে৷ সব প্রস্ত্ততিই সারা৷ তাই রবিবারের সেট -এ
সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷ যদিও সারা বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক
সমিতির (অ্যাবুটা ) সভাপতি তরুণ নস্করের কথায় , ‘সেট পরীক্ষার দু’দিন
আগে এ ভাবে সিএসসি -র চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে বলাটা বিস্ময়কর৷
সুপারিশের পরিবর্তে স্বচ্ছতার মাধ্যমেই চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়া
সম্পন্ন করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন ওই চেয়ারম্যান৷ ওঁকে যাদবপুরের
প্রাক্তন পড়ুয়া হিসাবেও চিনি৷ ’ নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের প্রাক্তন
সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন সেনগুন্ত বলেন , ‘সেট -এর ঠিক আগে এ ভাবে
কমিশনের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়ায় পরীক্ষা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা
থেকেই যায়৷ কলেজে শিক্ষক নেই৷অধ্যক্ষ নেই৷ ফলে উচ্চশিক্ষায়
সার্বিক সমস্যা চলছে৷ কমিশনের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়ায় নিয়োগ
প্রক্রিয়াও ধাক্কা খাবে৷ পালাবদলের পর রাজ্যে মাধ্যমিক , উচ্চ
মাধ্যমিক , স্কুল ও কলেজ সার্ভিস কমিশনের একের পর কর্তার অপসারণে
সার্বিক অনাস্থা তৈরি হচ্ছে৷ ei samay
No comments:
Post a Comment