Thursday, December 18, 2014

স্কুলছুট মেয়েদের পাচার রুখতে মোবাইল অ্যাপ



শক্তিরূপেণ সংস্থিতা ’ এ বার এক মোবাইল অ্যাপ৷ স্কুলছুট , বাল্যবিবাহ ও শিশুপাচার নিয়ন্ত্রণে এই স্মার্টফোন অ্যাপই এখন শক্তি জোগাচ্ছে রাজ্যের অসংখ্য দারিদ্র্য পীড়িত গ্রামের ছাত্রীকে৷ ‘জি পাওয়ার ’ বা ‘গার্ল পাওয়ার ’ নামে এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পরিষেবা পরীক্ষামূলক ভাবে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে ডায়মন্ড হারবার -১, ডায়মন্ড হারবার -২, ফলতা এবং মুর্শিদাবাদের ২০টি গ্রামে৷ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট ’ (সিনি ) এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘অ্যাকসেনচর ’-এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই অ্যাপ পরিষেবা৷ ‘অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিশুশিক্ষার অধিকার আইন , ২০০৯ ’ বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে অ্যাপের মাধ্যমে ছাত্রীদের দৈনন্দিন গতিবিধি নজরে রাখার এহেন অভাবনীয় উদ্যোগ সফলও হয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে৷ সেই সাফল্যকে পাথেয় করেই আগামী দিনে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য , শিক্ষা ও সমাজকল্যাণের মতো বিভিন্ন দন্তরকে এই প্রকল্পের কথা জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি৷ কী এই ‘জি পাওয়ার ’ অ্যাপ ?‘সিনি ’-র প্ল্যানিং অ্যান্ড অপারেটিং অফিসার মনোজ সরকারের কথায় , ‘আমাদের সমীক্ষা ‘মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট প্রজেক্ট ’ অনুযায়ী , দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বালিকারাই বাল্যবিবাহ ও পাচারের শিকার হয় সবথেকে বেশি৷ ২০১১ সালের আর একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে , ওই দুই জেলার অন্তর্গত ১০০টি গ্রামে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সের প্রায় পাঁচ হাজার বালিকা স্কুলশিক্ষার বাইরে রয়েছে এবং তারা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত৷ এই পাঁচ হাজার বালিকার মধ্যে ৪ হাজার ৫৭০ জনকে তাদের বয়সোপযোগী শ্রেণিতে স্থানীয় সরকারি স্কুলে ভর্তিও করা হয়েছে৷ ’ সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত , গ্রাম শিক্ষা কমিটি , বিদ্যালয় পরিচালন সমিতি , এলাকাবাসী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের এই সংক্রান্ত আলোচনাগুলিতে রাখা হয়েছিল৷ দক্ষিণ ২৪ পরগনার তিনটি এবং মুর্শিদাবাদের সাতটি ব্লকের ১০০টি স্কুলকে ‘শিশুবন্ধু স্কুল ’ বা ‘চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্কুল ’ হিসেবেও গড়ে তুলেছে ‘সিনি ’৷ ইতিমধ্যেই স্কুলছুটের শিকার হয়েছে এমন অনেক ছাত্রীকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শিশুবন্ধু স্কুলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ৷ কী উদ্দেশ্য ‘জি পাওয়ার ’-এর ? ‘সিনি ’-র অ্যাডোলেসেন্ট হেল্থ বিভাগের অ্যাসিন্ট্যান্ট ডিরেক্টর ডক্টর ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্যের কথায় , ‘বাল্যবিবাহ অথবা শিশুপাচারের মতো ব্যাধি থেকে বাঁচাতে ওই দুই জেলার ছাত্রীদের দৈনন্দিন গতিবিধিও নজরে রাখা হয়৷ তবে যেহেতু ছাত্রীদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোটা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রাথমিক কাজ , তাই তাদের স্কুলে যাওয়া অথবা না -যাওয়াকে কেন্দ্র করে তথ্য সংগ্রহ করার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়৷ ’ তিনি বলেন , ‘স্কুলছুট , বাল্যবিবাহ ও শিশুপাচার --- এই তিনটিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সামাজিক বাধাই যেহেতু সবথেকে বড় বাধা , তাই বয়ঃসন্ধির এই ছাত্রীদের বৃহত্তর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখানোটা অত্যন্ত জরুরি৷ ’ ২০টি গ্রামের চারজন ফিল্ড ডেটা কালেক্টরের স্মার্টফোনে ‘জি পাওয়ার ’ থেকে পাওয়া তথ্য নথিভুক্ত করা হয় অ্যাপ -এ৷ ওই অ্যাপটি যেহেতু ‘ক্লাউড সার্ভার ’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় , তাই তথ্য সংগ্রহকারীদের কাজের ব্যাপারে ইন্দ্রাণীদেবীরা খোঁজখবর পান সহজেই৷ শিশুবন্ধু স্কুল ও ‘জি পাওয়ার ’-এর মাধ্যমে পাচার হয়ে যাওয়ার আগের মুহূর্তে অনেক ছাত্রীকেই মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলেই দাবি করেছেন তাঁরা৷

No comments: